ক্রিকেট বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে কয় ক্রিকেট খেলা রয়েছে?

বাংলাদেশে দুটি ধরণের মূল ক্রিকেট খেলা রয়েছে:

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা।

  1. টেস্ট ক্রিকেটঃ সবচেয়ে দীর্ঘতম ফর্ম্যাট, ৫ দিনের ম্যাচ।
  2. একদিনের আন্তর্জাতিকঃ ৫০ ওভারের ম্যাচ।
  3. টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (টি-টোয়েন্টি)ঃ ২০ ওভারের ম্যাচ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই তিন ফর্ম্যাটে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট দল পরিচালনা করে থাকেন।

ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা।

  1. বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল): টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ।
  2. বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল): প্রথম শ্রেণীর প্রতিযোগিতা।
  3. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল): টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা।
  4. এছাড়াও আরও অনেক আঞ্চলিক এবং জাতীয় লিগ ও প্রতিযোগিতা রয়েছে।

এই খেলাগুলো ছাড়াও, স্কুল, কলেজ এবং ক্লাব স্তরেও ক্রিকেট খেলা হযয়ে থাকে আমাদের দেশে।বাংলাদেশে ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় খেলা এবং দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

টেস্ট ক্রিকেট খেলা কি?

টেস্ট ক্রিকেট ক্রিকেট খেলার দীর্ঘতম এবং সর্বোচ্চ মানদণ্ডের ফর্ম্যাটের একটি। টেস্ট ক্রিকেট ৫ দিন ধরে খেলা হয়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০ ওভার করে মোট ৪৫০ ওভার খেলা হয়ে থাকে ৫ দিনে।

টেস্ট ক্রিকেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হল।

  • দলঃ প্রতিটি দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে।
  • ইনিংসঃ প্রতিটি দল দুইবার ব্যাট করে, যাকে ইনিংস বলা হয়।
  • ব্যাটিংঃ ব্যাটিং দলের লক্ষ্য হল যতটা সম্ভব রান করা। একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে, পরবর্তী ব্যাটসম্যান ইনিংস চালিয়ে যায়।
  • বোলিংঃ বোলিং দলের লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের আউট করা। বোলার যখন একজন ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারে, তখন তাকে "উইকেট" বলা হয়।
  • ফলাফলঃ ম্যাচের শেষে, যে দল বেশি রান করে, সেই দল জিতে যায়। যদি দুই দল সমান রান করে, তাহলে ম্যাচ ড্র হয়।

টেস্ট ক্রিকেটের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

  • দীর্ঘ সময়সীমাঃ টেস্ট ক্রিকেট খেলার দীর্ঘ সময়সীমা খেলোয়াড়দের ধৈর্য, মানসিক শক্তি এবং কৌশলের পরীক্ষা করে।
  • কৌশলগত খেলাঃ টেস্ট ক্রিকেট কেবল শারীরিক দক্ষতার চেয়ে বেশি কিছু। এটি একটি কৌশলগত খেলা যেখানে দলের অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়দের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
  • ঐতিহ্যঃ টেস্ট ক্রিকেটের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে এবং এটি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মর্যাদার খেলা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ কত সালে টেস্ট ক্রিকেটে শুরু হয়?

  • বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটায়।
  • টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা জয় ছিল ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
  • সাকিব আল হাসান টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী এবং উইকেট শিকারী।
টেস্ট ক্রিকেট ক্রিকেটের একটি আকর্ষণীয় এবং চ্যালেঞ্জিং ফর্ম্যাট। এটি খেলোয়াড়দের দক্ষতা, ধৈর্য এবং কৌশলের পরীক্ষা করে।

একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ক্রিকেট কি?

একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ক্রিকেট খেলার একটি জনপ্রিয় ফর্ম্যাট যা দুটি জাতীয় দলের মধ্যে খেলা হয়। এটি টেস্ট ক্রিকেটের চেয়ে অল্প সময়ের এবং দ্রুতগতির খেলা যা একদিনের মধ্যেই শেষ হয়।

ওয়ানডে ক্রিকেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হল।

  • দলঃ প্রতিটি দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে।
  • ইনিংসঃ প্রতিটি দল একবার ব্যাট করে, যাকে ইনিংস বলা হয়।
  • ওভারঃ প্রতিটি ইনিংসে ৫০ ওভার থাকে, প্রতিটি ওভারে ৬ টি বল থাকে।
  • ব্যাটিং: ব্যাটিং দলের লক্ষ্য হল যতটা সম্ভব রান করা। একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে, ইনিংস শেষ হয়ে যায়।
  • বোলিংঃ বোলিং দলের লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষ দলের সকল ব্যাটসম্যানদের আউট করা।
  • ফলাফলঃ ম্যাচের শেষে, যে দল বেশি রান করে, সেই দল জিতে যায়। যদি ম্যাচের শেষে দুই দল সমান রান করে, তাহলে ম্যাচ ড্র হয়।
আরো পড়ূনঃফুটবলার সাদিও মানের পরিচয়।

ওয়ানডে ক্রিকেটের কিছু বৈশিষ্ট্য হল।

  • দ্রুতগতিরঃ ওয়ানডে ক্রিকেট টেস্ট ক্রিকেটের চেয়ে অনেক দ্রুতগতির খেলা। এতে বেশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং বোলিং দেখা যায়।
  • উত্তেজনাপূর্ণঃ ওয়ানডে ক্রিকেট খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে, কারণ ফলাফল ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকতে পারে।
  • জনপ্রিয়ঃ ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট ফর্ম্যাটগুলির মধ্যে একটি।

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রেক্ষাপট।

  • বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে তাদের প্রথম ওয়ানডে খেলে।
  • ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা জয় ছিল ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
  • তামিম ইকবাল ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী।
  • মুস্তাফিজুর রহমান ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী।

ওয়ানডে ক্রিকেট ক্রিকেটের একটি আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় ফর্ম্যাট। এটি দ্রুতগতির, উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের দ্বারা উপভোগ করা হয়

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কি?

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং দ্রুতগতির ফর্ম্যা্টের ক্রিকেট খেলা বলা হয়। এটি দুটি জাতীয় দলের মধ্যে খেলা হয় এবং মাত্র তিন ঘন্টা স্থায়ী হয়ে থাকে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হল।

  • দলঃ প্রতিটি দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে।
  • ইনিংসঃ প্রতিটি দল একবার ব্যাট করে, যাকে ইনিংস বলা হয়।
  • ওভারঃ প্রতিটি ইনিংসে ২০ ওভার থাকে, প্রতিটি ওভারে ৬ টি বল থাকে।
  • ব্যাটিংঃ ব্যাটিং দলের লক্ষ্য হল যতটা সম্ভব রান করা। একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে, ইনিংস শেষ হয়ে যায়।
  • বোলিংঃ বোলিং দলের লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষ দলের সকল ব্যাটসম্যানদের আউট করা।
  • ফলাফলঃ ম্যাচের শেষে, যে দল বেশি রান করে, সেই দল জিতে যায়। যদি ম্যাচের শেষে দুই দল সমান রান করে, তাহলে সুপার ওভার খেলা হয়। সুপার ওভারে প্রতিটি দল একটি করে ওভার ব্যাট করে এবং যে দল বেশি রান করে, সেই দল জিতে যায়।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কিছু বৈশিষ্ট্য হল।

  • দ্রুতগতিরঃ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খুব দ্রুতগতির খেলা। মাত্র তিন ঘন্টায় ফলাফল বেরিয়ে যায়।
  • জনপ্রিয়ঃ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট ফর্ম্যাটগুলির মধ্যে একটি।বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আবির্ভাব।
  • বাংলাদেশ ২০০৬ সালে তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলে।
  • টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা জয় ছিল ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
  • সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান এবং অল-রাউন্ডারদের মধ্যে একজন।
  • শুভাগত আলম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ক্রিকেটের একটি আকর্ষণীয় এবং দ্রুতগতির ফর্ম্যাট। এটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের দ্বারা উপভোগ করা হয়।সারা পৃথিবীতে ক্রিকেট খেলা সকলের মাঝে সমান ভাবে সমাদৃত।সারা পৃথিবিতে এমন কোন দেশ নাই যারা ক্রিকেট খেলে না বা ক্রিকেট খেলা উপভগ করে না।তাই আমরা বলতে পারি ক্রিকেট খেলার গুরুত্ব সারা পৃথিবীতে ব্যপক।

 

 

 

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ডিজিটাল সাকসেস আইটির নিতীমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪